উমাইয়া রাজনীতির কবলে মদিনাবাসী ও ইমাম মালিক
ইমাম মালিক কি উমাইয়াঘেঁষা ছিলেন?
ইমাম মালিক হিজরি প্রথম শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে মদিনায় জন্ম নিয়েছিলেন। এটা সেই মদিনা যেখানে ইয়াজিদের বাহিনী ত্রিশ বছর আগে পরিচালনা করেছিল নৃশংস হত্যাকাণ্ড। হাররার ঘটনায় মদিনা পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। সেই সময় থেকেই মদিনা ছিল উমাইয়া শাসকদের কড়া নজরদারিতে আটক। কারণ মদিনাতে আহলে বায়ত বা নবি পরিবারের সদস্যরা বসবাস করত। যালেমশাহীর বিরুদ্ধে মদিনা থেকে আহলে বায়তকে যেন কোনভাবে সাহায্য-সমর্থন না করা হয় সে ব্যাপারে উমাইয়ারা তাদের আমলের প্রথম থেকেই সচেষ্ট ছিল। যারা কোনভাবে উমাইয়াদের রাজনৈতিক স্বার্থ অর্জনে প্রতিবন্ধক হত, তাদেরকে তারা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করত।
ইমাম মালিকের বয়স যখন চল্লিশের ঘরে তখন আব্বাসিদের হাতে উমাইয়াদের পতন হয়। কিন্তু ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে আব্বাসিরা উমাইয়াদের অনুরূপ পলিসি গ্রহণ করে। মূলত আব্বাসিরা ক্ষমতা দখল করেছিল আহলে বায়তের অধিকার প্রতিষ্ঠার নাম নিয়ে। হযরত হাসানের পুত্র হাসান মুসান্নার নাতি মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহকে (নাফসে যাকিয়্যাহ হিসেবে বিখ্যাত) মাহদি ঘোষণা করে তারা উমাইয়াদের অপসারণ করে, কিন্তু জয় লাভের পর ক্ষমতা আহলে বায়তের হাতে হস্তান্তর না করে তারা নিজেরা জবরদখল করে এবং আহলে বায়তের সমর্থকদের ওপর খড়গহস্ত হয়। আব্বাসিদের প্রথম শাসক ছিল সাফফাহ। ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক বছর পর তার মৃত্যু হলে তার বড় ভাই মানসুর মসনদে আরোহন করে। এই মানসুরই মূলত আব্বাসি সাম্রাজ্যের মূল কারিগর। ক্ষমতা গ্রহণের পর মানসুর নাফসে যাকিয়াহ ও তার ভাই ইব্রাহিমকে হত্যা করতে বদ্ধ পরিকর হয়। এদিকে তারা দুইজন পালিয়ে মদিনাতে আত্মগোপন করে। এই সময় মানসুর মদিনার মানুষের কাছ থেকে জোর করে বাইয়াত গ্রহণ করছিল যাতে তারা কেউই নাফসে যাকিয়ার পক্ষে যোগ না দেয়। কিন্তু ইমাম মালিক মদিনাতে সে সময় একটি ফতওয়া দেওয়া শুরু করেন যা আব্বাসিদের এই প্রচেষ্টাকে বানচাল করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। তিনি বলা শুরু করেন, "জোর করে স্বামীকে যদি স্ত্রীকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়, তবে সেটা তালাক হিসেবে গণ্য না।" মূলত এতে ইঙ্গিত ছিল যে, জোর করে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে আব্বাসিরা মানুষের কাছ থেকে যে বাইয়াত নিচ্ছে সেটা প্রকৃত বাইয়াত নয়। আর এই ফতওয়ার কারণে মানসুর ইমাম মালিককে শারীরিকভাবে অপদস্থ ও লাঞ্ছিত করে।
ইমাম মালিক এই প্রসঙ্গে বলেন,
ضُرِبْتُ فيما ضُرب فيه سعيد بن المسيب، ومحمد بن المنكدر، وربيعة، ولا خيرَ فيمن لا يؤذى في هذا الأمر
"আমাকে ঠিক সেই কারণেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে যে কারণে সাইদ বিন মুসাইয়াব, মুহাম্মদ বিন মুনকাদির, রবিয়াহকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। এই কারণকে রক্ষা করতে গিয়ে যারা শাস্তি ভোগ করে না, তাদের মাঝে কোন কল্যান নেই।" (তারিখুল ইসলাম, যাহাবি)
তো কী ছিল সেই কারণ? আবুল আরাব আত তামিমি (হি. ৩৩৩) তার "আল মিহান" বইতে বলেন,
ذكر من ضرب من أئِمَّة الدّين وأخيار هَذِهِ الأُمَّةِ مِن أهْلِ مَدِينَةِ النَّبِيِّ ﷺ
ضُرِبَ سَعِيدُ بْنُ المُسَيِّبِ القُرَشِيُّ عَلى البَيْعَةِ فِي أيّامِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ مَرَّةً عَلى البَيْعَةِ وأُخْرى فِي أيّامِ عَبْدِ المَلِكِ بْنِ مَرْوانَ إذْ أرادَ أنْ يُبايِعَ لابْنِهِ الوَلِيدِ
"নবির শহর মদিনার যেসব দ্বীনের ইমাম এবং উম্মাতের শ্রেষ্ঠ ব্যাক্তিগণ প্রহারের শিকার হয়েছেন —
সাইদ বিন মুসাইয়াব আল কুরাশিকে আব্দুল্লাহ বিন যুবায়েরের শাসনামলে পেটানো হয়েছিল বাইয়াত দেওয়ার বিষয়ে, এছাড়াও আব্দুল মালিক বিন মারওয়ানের আমলে যখন তার পুত্র ওয়ালিদের জন্য বাইয়াত গ্রহণ করা হচ্ছিল তখন তাকে প্রহার করা হয়।"
উমাইয়াদের আমলে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে রাখা খুবই সাধারণ একটি বিষয় ছিল। আর এই কারণে বাধ্য হয়ে অনেকেই মৌনতা গ্রহণ করেন। এমনকি কখনো কখনো উমাইয়াদের পক্ষে কথা বলতেও বাধ্য হন। এর একটি উদাহরণ হল, ইমাম মালিক উমাইয়ারা ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে কখনোই আহলে বায়তের বিখ্যাত ইমাম জাফর বিন সাদেক থেকে হাদিস বর্ণনা করেন নি। অথচ জাফর বিন সাদেক ছিলেন মদিনায় তার প্রতিবেশী! উমাইয়াদের কঠোর দমনপীড়নের কারণে তিনি মৌনতা অবলম্বনে বাধ্য হন।
قالَ مُصْعَبُ بنُ عَبْدِ اللهِ: سَمِعْتُ الدَّراوَرْدِيَّ يَقُولُ: لَمْ يَروِ مالِكٌ عَنْ جَعْفَرٍ حَتّى ظَهَرَ أمرُ بَنِي العَبّاسِ. قالَ مُصْعَبٌ: كانَ مالِكٌ يَضُمُّه إلى آخَرَ.
"দাওয়ারদির সূত্রে মুসআব আয-যুবাইরি বলেন, আব্বাসিরা ক্ষমতা গ্রহণের আগ পর্যন্ত ইমাম মালিক জাফর থেকে কিছুই বর্ণনা করেন নি। মুসআব আরো বলেন, মালিক অন্য সূত্র থেকে তা বর্ণনা করতেন।" (সিয়ারু আলামিন নুবালা, যাহাবি)
ইমাম মালিক যে কেবল উমাইয়াদের চাপে পড়ে কেবল হযরত হুসাইনের বংশধর জাফর সাদেক থেকে বর্ণনা পরিত্যাগ করেছিলেন তা নয়, এমনকি হযরত আলীর মর্যাদা ও ফযিলতের ব্যাপারেও তাকে মুখে কুলুপ আঁটতে হয়েছিল। ইবনে হিব্বান তার "আল মাজরুহিন" গ্রন্থে বলেন,
ولست أحفظ لمالك ولا للزهري فيما رويا من الحديث شيئًا من مناقب علي عليه السلام أصلًا
"মালিক কিংবা যুহরির কারো সূত্রেই আলী আ. এর মানাকিব বা মর্যাদা সম্পর্কে কোন হাদিস বর্ণিত হয়েছে বলে আমার কাছে সংরক্ষিত নেই।"
আহলে বায়তের বিরুদ্ধে উমাইয়াদের শত্রুতা এত বেশিই ছিল যে, তারা প্রকাশ্যে হযরত আলী ও তার পরিবারকে মসজিদের মিম্বার থেকে গালিগালাজ করত। আমিরে মুয়াবিয়ার চালু করা এই প্রথা উমাইয়ারা শেষতক জারি রেখেছিল। মারওয়ানের নাতি হযরত ওমর বিন আব্দুল আযিয ক্ষমতায় এসে এটা পরিবর্তনের চেষ্টা করেন, কিন্তু শীঘ্রই তাকে হত্যা করে ফেলা হয়। উমাইয়ারা নিজেরা সদাসর্বদা আলী, ফাতিমা, হাসান, হুসাইন ও তাদের বংশধরদের নিয়ে গালিগালাজ করলেও মুয়াবিয়া, মারওয়ান ও তাদের সহযোগীদের ব্যাপারে সমালোচনার ক্ষেত্রে ছিল কঠোর। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ইমাম মালিকের নিচের বক্তব্যটি দেখা যাক যা কাযি ইয়ায তার "শিফা"তে উল্লেখ করেছেন।
قال مالِك من شتم النبي ﷺ قُتِل ومَن شَتَم أصْحابَه أُدِّب وقال أيْضًا من شَتَم أحَدًا من أصْحاب النَّبِيّ ﷺ أبا بَكْر أو عُمَر أو عُثْمان أو مُعاوِيَة أو عَمْرَو بن العاص فَإن قال كانُوا عَلى ضَلال وكُفْر قُتِل وإن شَتَمَهُم بِغَيْر هَذا من مُشاتَمَة النّاس نُكِّل نَكالًا شَدِيدًا
"মালিক বলেন, যে নবিজি গালমন্দ করে তার পরিণতি মৃত্যুদণ্ড। আর যে তার সাহাবিদের গালমন্দ করে তাকে সাজা দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, যে ব্যাক্তি নবিজির কোন সাহাবিকে গালমন্দ করবে যেমন আবু বকর কিংবা ওমর কিংবা ওসমান কিংবা মুয়াবিয়া কিংবা আমর বিন আস, তাদেরকে যদি সে গোমরাহ ও কাফের বলে তবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। আর যদি কেবল গালমন্দ করে সাধারণ মানুষদের গালমন্দের মত, তবে প্রচণ্ড শাস্তি দেওয়া হবে।"
লক্ষ্য করলে দেখবেন যে, এখানে উল্লিখিত তালিকাতে হযরত আলীর নাম নেই! অথচ স্পেসিফিকলি হযরত আলীকে গালমন্দ করার ব্যাপারে সহিহ সূত্রে হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা অন্য কোন সাহাবির ব্যাপারে আসে নি। ইমাম নাসাইর খাসায়েসে আলী, মুসতাদরাকে হাকেম, মুসনাদে আহমাদ, মাজমাউয যাওয়ায়েদ কিতাবে উম্মে সালামার হাদিস বর্ণিত আছে যে, আল্লাহর রাসুল বলেছেন, من سبَّ علياً فقد سبني "যে আলীকে গালি দেয় সে আমাকেই গালি দেয়।"
কিন্তু যেহেতু আলিকে গালি দেওয়া বনু উমাইয়াদের একটি নিত্য-নৈমিত্তিক বিষয় ছিল তাই ইমাম মালিকের এই উক্তি থেকে আলীর নাম বাদ দিয়ে তার স্থানে মুয়াবিয়ার নাম যোগ করা হয়!
ইমাম মালিকের ব্যাপারে একটা অভিযোগ তোলা হয় যে, তিনি হযরত আলীর শ্রেষ্ঠত্ব কিংবা খিলাফত স্বীকার করতেন না। এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি। মূলত বনু উমাইয়ার শাসনামলে ইমাম মালিককে হযরত আলী ও তার পরিবারের ব্যাপারে মৌনতা গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়। উমাইয়াদের পতন হলে তিনি জাফর সাদেক থেকে বর্ণনা করা শুরু করেন। কিন্তু শীঘ্রই তিনি আব্বাসিদের অত্যাচারের শিকার হন এবং বাধ্য হয়ে জীবনের শেষ ২০ বছর তিনি সকল ধরণের জনসমাবেশ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নেন। তিনি মসজিদে যাওয়া ত্যাগ করেন, এমনকি জুমার নামাযেও তিনি যেতেন না। এর কারণ ঠিক কী ছিল এই নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা আছে। কিন্তু শক্তিশালী মত অনুযায়ী, জুমার খুতবাতে যেহেতু যালেম শাসকদের পক্ষে সাফাই গাওয়া হত, বিভিন্ন অন্যায় কথা বলা হত, অত্যাচারকে বৈধ করা হত, আর মানুষের জন্য সেটা চুপ করে শুনে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় ছিল না, তাই জুমা ও জামাত বয়কটের মাধ্যমে ইমাম মালিক যুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী অবস্থান গ্রহণ করেন। কারণ এই জুমার নামায পড়ানো হত যালেম খলিফার নামে, তাই এতে অংশ নেয়া ছিল সেই যুলুমের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন। আ'ল্লাহু আ'লাম।
গালিগালাজ করা কিংবা কুৎসিত শব্দ ব্যবহার করা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার পবিত্র পরিবারের আদর্শের পরিপন্থী। তাই বনু উমাইয়া শাসকগোষ্ঠীর হাজার যুলুম-অত্যাচার সত্ত্বেও তাদের কারো নাম ধরে গালিগালাজ করা শোভনীয় নয়। ইনসাফের সাথে বাস্তবতাকে তুলে ধরা এবং মজলুমের উপর কৃত যুলুমকে স্পষ্ট করে দেওয়া আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। ইমাম মালিক ছিলেন এর উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। তিনি প্রথম উমাইয়া শাসক আমিরে মুয়াবিয়ার অন্যায় ও অপকর্মে লিপ্ত হবার ঘটনা বর্ণনা করেছেন, এর ভিত্তিতে অত্যাচারী শাসকের সাথে করণীয় কী সেটা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সরাসরি ব্যক্তি মুয়াবিয়াকে গালি দিয়ে তার মানহানী করেন নি।
ইমাম মালিকের মুয়াত্তা গ্রন্থে রয়েছে,
عَنْ زَيْدِ بْنِ أسْلَمَ، عَنْ عَطاءِ بْنِ يَسارٍ؛ أنَّ مُعاوِيَةَ بْنَ أبِي سُفْيانَ، باعَ سِقايَةً مِن ذَهَبٍ، أوْ ورِقٍ بِأكْثَرَ مِن وزْنِها. فَقالَ أبُو الدَّرْداءِ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ، يَنْهى عَنْ مِثْلِ هذا إلاَّ مِثْلًا بِمِثْلٍ . فَقالَ لَهُ مُعاوِيَةُ: ما أرى بِمِثْلِ هذا بَأْسًا. فَقالَ أبُو الدَّرْداءِ : مَن يَعْذِرُنِي مِن مُعاوِيَةَ؟ أنا أُخْبِرُهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ. ويُخْبِرُنِي عَنْ رَأْيِهِ. لاَ أُساكِنُكَ بِأرْضٍ أنْتَ بِها.
"যায়দ বিন আসলাম থেকে, তিনি আতা বিন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন, মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান স্বর্ণের তৈরি পানপাত্র কিংবা ফলক বিক্রি করেন তার ওজনের চেয়ে বেশি স্বর্ণ নিয়ে। সাহাবি আবু দারদা তাকে বললেন, আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরকম ক্ষেত্রে, সমানে সমান ছাড়া কেনাবেচা করতে নিষেধ করেছেন। জবাবে মুয়াবিয়া বলেন, আমি এতে কোন সমস্যা আছে বলে মনে করি না। আবু দারদা বলে ওঠেন, মুয়াবিয়া থেকে আমাকে কে উদ্ধার করবে? আমি তাকে আল্লাহর রাসুলের কথা শোনাই, আর সে আমাকে তার নিজের মত শোনায়। যেই দেশে তোমার মত লোক থাকে, সে দেশে আমি থাকব না!"
ইমাম কুরতুবি তার তাফসিরে এই হাদিস সম্পর্কে বলেন,
رَوى ابْنُ وهْبٍ عَنْ مالِكٍ أنَّهُ قالَ: تُهْجَرُ الأرْضُ الَّتِي يُصْنَعُ فِيها المُنْكَرُ جِهارًا ولا يُسْتَقَرُّ فِيها. واحْتَجَّ بِصَنِيعِ أبِي الدَّرْداءِ فِي خُرُوجِهِ عَنْ أرْضِ مُعاوِيَةَ حِينَ أعْلَنَ بِالرِّبا، فَأجازَ بَيْعَ سِقايَةِ الذَّهَبِ بِأكْثَرَ مِن وزْنِها.
"ইমাম মালিক থেকে ইবনে ওয়াহব বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, যে স্থানে প্রকাশ্যে অন্যায়-অপকর্ম করা হয় সে স্থান ত্যাগ করতে হবে এবং সেখানে স্থায়ী হওয়া যাবে না। ইমাম মালিক এর জন্য প্রমাণ হিসেবে আবু দারদার দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেছেন যখন মুয়াবিয়া সুদে জড়িত হবার ঘোষণা দেয় এবং স্বর্ণের পানপাত্রকে তার চেয়ে বেশি ওজনে বিক্রি করে।"
ইমাম ইবনে আব্দুল বার মুয়াত্তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ "আত তামহীদ" এ এই হাদিস সম্পর্কে বলেন,
وهَذا أصْلٌ عِنْدَ العُلَماءِ فِي مُجانَبَةِ مَنِ ابْتَدَعَ وهِجْرَتِهِ وقَطْعِ الكَلامِ مَعَهُ
"আলেমরা এই হাদিস থেকে বিদআতিদের বর্জন ও পরিত্যাগ এবং তাদের সাথে কথাবার্তা বন্ধ করার মূলনীতি বের করেছেন।"
কারো বাস্তবতা তুলে ধরা এবং তার অন্যায়ের সমালোচনা করার জন্য কুৎসিত শব্দচয়ন ও গালাগালি করা নিষ্প্রয়োজন, বরঞ্চ এসব গালাগালি সত্যকে উপস্থাপন করা ও মানুষের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক।

